আজ বৃহস্পতিবার, ১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

আলোচিত অস্ত্রধারী নিয়াজুল সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে!

সংবাদচর্চা রিপোর্টঃ
বিগত ২০১৬ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারী ঘটে যাওয়া নারায়ণগঞ্জের সেই আলোচিত হকার ইস্যুর সেই চিহ্নিত সন্ত্রাসী অস্ত্রধারী নিয়াজুল ইসলাম গতকাল ২মার্চ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। গতকালের অনুষ্ঠিত মাদক ও সন্ত্রাসী বিরোধী সমাবেশে অস্ত্রধারী নিয়াজুল ইসলামের উপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। নগরবাসীর মতে যেখানে সংসদ সদস্য মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশ করেছেন সেই সমাবেশে যদি শহরের চিহ্নিত ও বিতর্কীত অস্ত্রধারীরা অবস্থান নেয় তাহলে এই মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশ করে শামীম ওসমান ফল কি পেলেন তা এখন সবার প্রশ্ন ?

জানা যায়, আলোচিত হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর ওপর হামলার ঘটনায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী অস্ত্রধারী নিয়াজুল ইসলামকে অভিযুক্ত করা হয়। সেই সময় অস্ত্রধারী নিয়াজুলের বিরুদ্ধে ফৌজদারী ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করেছিলেন জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি।

সচেতন নাগরীকদের মতে, বিগত সময়ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশ করেছেন। তার প্রতিটি সমাবেশে নগরীর একাধিক বিতর্কীত চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মদক ব্যবসায়ীদের সরব উপস্থিতি দেখা গিয়েছে। একাধিক নগরবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলেন, কি জামানা আসলো মাদক ব্যবসায়ী আর সন্ত্রাসীদের দিয়ে মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত সমাজ গড়তে চান শামীম ওসমান। তার এই প্রচেষ্টা আসলেইকি সফল হবে? একজন মদ বেচে দুধ খাচ্ছে আরেকজন দুধ বেচে মদ খচ্ছে তাহলে এদের মধ্যে সমাজ বিরোধী কে আর সমাজ রক্ষাকরী কে? এই প্রশ্নের উত্তর কেবল মাত্র এমপি শামীম ওসমানই দিতে পারবেন বলে মনে করেন সচেতন নগরবাসী!

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাঁদমারী এলাকার বাসিন্দা অস্ত্রধারী নিয়াজুল ইসলাম খান যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে তিনি এলাকায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ শামীম ওসমানের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি এলজিইডির ঠিকাদারি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন। এছাড়াও নিয়াজুল পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা, ভূমিদস্যুতা, শহরের চাঁনমারী রেল লাইন সংলগ্ন আর্মি মার্কেটের পাশে অবস্থিত রেলওয়ের সম্পত্তি জবর দখল করে একটি মার্কেট প্রতিষ্ঠা ও নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে আছে নিয়াজুলের নাম।

গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে এরশাদের সময় নাসিম ওসমান সংসদ সদস্য হলে নিয়াজুলের উত্থান হয়। ১৯৮৮ সালে সংঘটিত জোড়া খুনের (কামাল ও কালাম) মামলার আসামি ছিলেন এই অস্ত্রধারী সন্ত্রসী। ১৯৯৬ সালে শামীম ওসমান সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলে নিয়াজুল অস্ত্রে লাইসেন্স পান।

জানা যায়, নিয়াজুল ইসলামের ভাই যুবলীগের ক্যাডার নজরুল ইসলাম ওরফে সুইট বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হন। ওই সরকারের আমলে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত যুবদলের নেতা মমিন উল্লা ওরফে ডেভিড নিয়াজুল ইসলামের নিকট আত্মীয়।

বিগত হকার ইস্যুর পর থেকেই অস্ত্রধারী নিয়াজুল গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সন্ত্রাসী নিয়াজুলকে নারায়নগঞ্জ এবিসি ইন্টরন্যাশনাল স্কুল কেন্দ্রের বাহিরে দেখা গিয়েছিল। এরপর নিয়াজুল আবারও গা ঢাকা দেয়।

অপর দিকে দৈনিক সংবাদচর্চায় পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ শহরকে হকার মুক্ত রাখার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা সত্বেও নাঃগঞ্জ শহর সম্পূর্ণ হকার মুক্ত হচ্ছে না কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় কিছু বিশেষ দিন গুলোতে নগরীর সকল ফুটপাতগুলো সম্পুর্ণ হকার মুক্ত থাকে, এর রহস্য কী জানতে চায় জেলার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার সাধারণ মানুষ। তদের মতে ২মার্চ একটি বেশেষ দিন। এই বিশেষ দিন উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত গুলো হকার মুক্ত থাকবে বলে মনে করেছিলেন নগরীর সাধারণ জনতারা।

অপর দিকে ২রা মার্চ সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের জনসভা উপলক্ষে নগরীর সকল ফুটপাতের হকারদের নিয়ে ব্যাপক লোকের উপস্থিতি ঘটনার জন্য কথিত হকার্স লীগের সভাপতি চাঁদাবাজ রহিম মুন্সি ও সাধারণ সম্পাদক আসাদের নেতৃত্বে শামীম ওসমানের জনসভায় যোগদান করে। হকারদের এই অংশগ্রহণের মাধ্যমেই নগরবাসীর আশংকা সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে।